ইকরামুল হোসেন, মনিরামপুর (যশোর) থেকেঃ যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় স্বাধীনতার মহান স্হপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২১শে আগস্ট (শনিবার) বিকাল ৩টায় মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় সম্মুখে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনিরামপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বাবু স্বপন ভট্টাচার্য্য (এমপি)।

তিনি বলেন, রক্তাক্ত ২১ আগস্ট আজ দেশের ইতিহাসে একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। সেই নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার ১৭তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে সভ্য জগতের অকল্পনীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় রাজধানীতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে। আওয়ামী লীগের জনসভায় চালানো গ্রেনেডের হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতাকে। আক্রান্ত হন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুরকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসীবিরোধী সমাবেশে কথা বলতে গিয়ে সন্ত্রাসের শিকার হন আওয়ামী লীগ সভাপতি। হামলার ধরন ও লক্ষ্যস্থল থেকে এটা স্পষ্টত যে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল ওই গ্রেনেড হামলা ও গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য। দলীয় নেতা-কর্মীদের তৈরি মানববর্মে শেখ হাসিনা রক্ষা পেলেও ওই হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারান।

গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তার সম্পৃক্ততায় প্রমাণ মেলে ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সেদিন ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী‘ শান্তি মিছিলের আয়োজন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিলের আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রাকমঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরপরই তাকে টার্গেট করে উপর্যুপরি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৩টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের বীভৎসতায় মুহূর্তেই মানুষের রক্ত-মাংসের স্তূপে পরিণত হয় সমাবেশস্থল।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিণত এক মৃত্যুপুরীতে। স্প্লিন্টারের আঘাতে মানুষের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় রক্তাক্ত নিথর দেহ। লাশ আর রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের পিচঢালা পথ।

নিহত-আহতদের জুতা-স্যান্ডেল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভেসে আসে আহত ও মৃত্যুপ্রায় মানুষের গননবিদারী আর্তচিৎকার। সেদিন রাজধানীর প্রতিটি হাসপাতালে আহতদের তিল ধারণের স্থান ছিল না বলে জানান তিনি।

এ সময় আরও বক্তব্য প্রদান করেন, মনিরামপুর উপজেলা থেকে বারবার নির্বাচিত পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বর্ষিয়ান নেতা আলহাজ্ব এম এম নজরুল ইসলাম,জি এম মজিদ, ভোজগাতী ইউপির চেয়ারম্যান জননেতা আঃ রাজ্জাক,উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা জেলা পরিষদের সদস্য গৌতম চক্রবর্তী, এডভোকেট বশীর আহম্মেদ খাঁন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগের আহবায়ক উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চু, শরীফুল ইসলাম রিপন,ছাত্রলীগের আহবায়ক মুরাদুজ্জামান মুরাদসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।